যাদের সাহসি হাত ধরে এসেছিল স্বাধীনতা, বঙ্গবন্ধুর ডাকে নিজের প্রাণ বাজি রেখে যারা ঝাপিয়ে পড়েছিলেন মুক্তিযুদ্ধে, জন্ম নিয়েছিল বাংলাদেশ নামের স্বাধীন ভূখণ্ড, জাতির সেই বীর সন্তানদের আজীবন সম্মাননা জানাল দেশের সর্বাধিক প্রচারিত দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিন পরিবার। জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের সম্মান জানানোর ধারাবাহিক আয়োজনের অংশ হিসেবে আজ শুক্রবার ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপ কমপ্লেক্সে একাত্তরের সেক্টর কমান্ডার ও শীর্ষ পর্যায়ের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে আবেগাপ্লুত বীর সেনারা তাদের আগামী স্বপ্নের কথা তুলে ধরেন। ব্যক্ত করেন সুন্দর সমৃদ্ধিশালী বাংলাদেশের প্রত্যাশার কথা।
জাতির এতজন শ্রেষ্ঠ সন্তানকে একসঙ্গে বাংলাদেশের কোনো গণমাধ্যমের সম্মান জানানোর ঘটনা এটাই প্রথম। বসুন্ধরা ও ইস্ট ওয়েস্ট মিডিয়া গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহানকে সঙ্গে নিয়ে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রথম ক্যাবিনেট সেক্রেটারি ও প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম বীর যোদ্ধাদের হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন। সম্মানসূচক উত্তরীয় পরিয়ে দেন বাংলাদেশ প্রতিদিন সম্পাদক নঈম নিজাম। বাংলাদেশ প্রতিদিনের সঙ্গে পুরো অনুষ্ঠানে সার্বিক সহযোগিতায় ছিল সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড (এসআইবিএল)। নিউজ টোয়েন্টিফোর ও রেডিও ক্যাপিটালে লাইভ সম্প্রচারিত পুরো অনুষ্ঠানটির সঞ্চালনায় ছিলেন নিউজ টোয়েন্টিফোরের হেড অব কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স সামিয়া রহমান।
আজীবন সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন : মহান মুক্তিযুদ্ধের উপপ্রধান সেনাপতি এয়ার ভাইস মার্শাল এ কে খন্দকার (অব.) বীরউত্তম, সাবেক সেনাপ্রধান ও সেক্টর কমান্ডার মেজর জেনারেল কে এম সফিউল্লাহ (অব.) বীরউত্তম, সেক্টর কমান্ডার মেজর রফিকুল ইসলাম (অব.) বীরউত্তম, সেক্টর কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবু ওসমান চৌধুরী (অব.), মেজর (অব.) ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর বীরউত্তম, কর্নেল এইচ এম এ গাফফার (অব.) বীরউত্তম, কমোডর এ ডব্লিউ চৌধুরী (অব.) বীরউত্তম ও বীরবিক্রম, স্কোয়াড্রন লিডার (অব.) লিয়াকত আলী খান বীরউত্তম, গ্রুপ ক্যাপ্টেন (অব.) শামসুল আলম বীরউত্তম, মেজর কামরুল হাসান ভূঁইয়া (অব.), কমান্ডার খলিলুর রহমান (অব.), স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শব্দসৈনিক কামাল লোহানী, মুক্তিযুদ্ধের অপারেশন হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন, মেজর আখতারুজ্জামান (অব.) ও নাট্যকার মামুনুর রশীদ। অসুস্থতার কারণে উপস্থিত থাকতে না পারায় কমান্ডার খলিলুর রহমান (অব.)-এর পক্ষে সম্মাননা গ্রহণ করেন ছেলে আশিকুর রহমান। এ ছাড়া সেক্টর কমান্ডার মেজর রফিকুল ইসলাম (অব.) বীরউত্তমের পক্ষে মেয়ে সির্মানা আজম ও স্কোয়াড্রন লিডার লিয়াকত আলী খান (অব.) বীরউত্তমের পক্ষে বড় ভাই অ্যাডভোকেট আলী হায়দার খান সম্মাননা গ্রহণ করেন।
মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে এইচ টি ইমাম বলেন, ‘বাংলাদেশ, বঙ্গবন্ধু, স্বাধীনতা এক ও একক অর্থে ব্যবহার করা যায়। মুক্তিযোদ্ধারা আমাদের পরম শ্রদ্ধেয়। আজকের অনুষ্ঠানে একসঙ্গে এতজন শীর্ষ পর্যায়ের মুক্তিযোদ্ধাকে দেখে আমি আপ্লুত। এ অনুষ্ঠানটি অনবদ্য ও অনন্য। এর আগে কোনো মিডিয়া এমন আয়োজন করেনি। তাদের এভাবে সম্মান দিতে পেরে সত্যিই আমরা আজ গর্বিত। ’ তিনি বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধ সত্যিকার অর্থেই ছিল জনযুদ্ধ। গুটিকয় ব্যক্তি ছাড়া দেশের আপামর মানুষ এ যুদ্ধে অংশ নিয়েছিল। এ ধরনের একটি অনুষ্ঠানের জন্য বসুন্ধরা গ্রুপ ও বাংলাদেশ প্রতিদিনকে ধন্যবাদ। প্রতিষ্ঠান দুটির উত্তরোত্তর শুভ কামনা করি। ’ বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান বলেন, ‘বাংলাদেশ ও পৃথিবী যত দিন থাকবে বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দেওয়া এই মুক্তিযোদ্ধাদের নাম তত দিন মনে রাখবে মানুষ। যাদের আজ সম্মাননা দেওয়া হচ্ছে, তাদের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সম্মান দিয়ে শেষ করা যাবে না। ’ তিনি বলেন, ‘একসময় বাংলাদেশকে তলাবিহীন ঝুড়ি বলা হয়েছে, এখন সেই বাংলাদেশ বিশ্বের কাছে ঈর্ষণীয়। আর একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ না হলে এই বাংলাদেশ জন্ম নিত না। এখন বাংলাদেশ রকেট গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। এটি মুক্তিযোদ্ধাদেরই ফসল। প্রত্যেক মুক্তিযোদ্ধাই একেকটি ইতিহাস। ’
কালের কণ্ঠ সম্পাদক সাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন বলেন, ‘১৯৭১ সাল ছিল বাংলাদেশের জন্য একই সঙ্গে সুসময় ও দুঃসময়। সুসময় এ কারণে যে, তখন পুরো জাতি একসঙ্গে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিয়েছিল। দুঃসময়ের কারণ ৩০ লাখ বাংলাদেশির প্রাণ হারানো। ’
স্বাগত বক্তব্যে বাংলাদেশ প্রতিদিন সম্পাদক নঈম নিজাম বলেন, ‘একাত্তর, বাংলাদেশ ও মুক্তিযোদ্ধা প্রতিটি শব্দই একে অন্যের সঙ্গে যুক্ত। আমাদের হৃদয়ে মুক্তিযুদ্ধ। আমরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধরে রেখে এগিয়ে চলেছি। বাংলাদেশ প্রতিদিন মুক্তিযোদ্ধাদের স্বপ্ন পূরণে কাজ করছে, করবে। ’ অনুষ্ঠানের সহযোগী এসআইবিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও ইকবাল হোসেন বলেন, ‘এ ধরনের আয়োজনের সঙ্গে থাকতে পেরে আমরা গর্বিত। ’
অনুষ্ঠানের শুরু ও শেষে সংগীত পরিবেশন করেন চ্যানেল আইয়ের সেরা কণ্ঠের শিল্পী সাকিলা শুক্লা। সম্মাননা গ্রহণ শেষে নিজেদের তাত্ক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানান বীর যোদ্ধারা। এয়ার ভাইস মার্শাল এ কে খন্দকার (অব.) বীরউত্তম বলেন, ‘আজকের এই অনুষ্ঠানে এসে আমার অনেক বন্ধু, সহযোদ্ধার সঙ্গে দেখা হয়েছে। আমরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করেছিলাম। যে দেশ মানুষের দ্বারা তৈরি হয়েছে সে দেশ এগিয়ে যাবেই। ’ মেজর জেনারেল কে এম সফিউল্লাহ (অব.) বীরউত্তম বলেন, ‘যেভাবে আমরা যুদ্ধের সময় বাংলাদেশিদের একত্রিত হতে দেখেছিলাম সেভাবেই সবাইকে একসঙ্গে মিলেমিশে কাজ করতে দেখতে চাই। ’
লে. কর্নেল আবু ওসমান চৌধুরী (অব.) বলেন, ‘এখানে আমার যে সহযোদ্ধারা এসেছেন অনেকের সঙ্গেই বহুদিন দেখা হয় না। সত্যি ভীষণ ভালো লাগছে। এই আনন্দটুকু যেন আমরা আমৃত্যু ধরে রাখতে পারি সেটাই আকাঙ্ক্ষা। ’
কমোডর এ ডব্লিউ চৌধুরী (অব.) বীরউত্তম ও বীরবিক্রম বলেন, ‘আমরা গর্বিত আপনারা আমাদের সম্মান দিয়েছেন, ভালোবাসা দিয়েছেন। আমরা যেন বাঙালির বীরত্বগাথা, ইতিহাস ও ঐতিহ্য নিয়ে এগিয়ে যাই। ’
কর্নেল এইচ এম এ গাফফার (অব.) বীরউত্তম বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু যে বাংলাদেশ দেখতে চেয়েছেন আমার মৃত্যুর আগে যেন সেই বাংলাদেশ দেখে যেতে পারি। ’
ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর বীরউত্তম বলেন, ‘আমরা মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য যুদ্ধ করেছিলাম। পাকিস্তানি লুটেরাদের বিতাড়িত করে ছিনিয়ে এনেছিলাম স্বাধীন বাংলাদেশ। ’
গ্রুপ ক্যাপ্টেন শামসুল আলম (অব.) বীরউত্তম বলেন, ‘৪৬ বছর পর আমরা এখানে এসেছি, আমরা এখনো জীবিত। আমাদের এখনকার প্রজন্ম সব সময় একটা প্রশ্ন করে— আমরা কি অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছেছি? শুধু একটা কথাই বলব, বাংলাদেশ না হলে বাঙালির নিজেদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান দাঁড় করাতে পারত না। স্বাবলম্বী হতে পারত না এ জাতি। ’
মেজর কামরুল হাসান ভূঁইয়া (অব.) বলেন, ‘আমাদের প্রিয় মাতৃভূমির নাম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ। মুক্তিযুদ্ধের নাম জনযুদ্ধ। এই জনযুদ্ধের মধ্য দিয়ে আমাদের দেশ এগিয়ে যাবে। ’
মেজর আখতারুজ্জামান (অব.) বলেন, ‘যুদ্ধের সময় যারা আমার নায়ক ছিলেন সেই বীর যোদ্ধাদের আরেকবার সামনে দেখে, কাছে পেয়ে আমি আবেগে আপ্লুত। আমরা দুই ভাই মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছিলাম আর পেছন থেকে আমাদের সহযোগিতা করতেন আমাদের মা। ’
ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘বিভক্ত বাংলাদেশ নয়, আমরা সমষ্টিগত বাংলাদেশ চাই; যেখানে সবাই একযোগে কাজ করবে। ’
কামাল লোহানী বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের নায়কদের সামনে দেখে আমি শক্তি অর্জন করছি। আমরা স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে একটা স্লোগান দিতাম— “ওরা মানুষ হত্যা করছে, চলুন আমরা পশু হত্যা করি”। সেই পশু হত্যা শেষ হয়নি। যত দিন না হবে তত দিন আমরা ঈপ্সিত লক্ষ্য অর্জন করব না। ’
স্থপতি মোবাশ্বের হোসেন বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের আলোকে আমাদের নতুন প্রজন্মকে গড়ে তুলতে হবে। চলুন আমরা সবাই মিলে আমাদের ভবিষ্যেক গড়ে তুলি। ’
মামুনুর রশীদ বলেন, ‘আমরা বৈষম্যহীন বাংলাদেশ দেখতে চাই।’
SOURCE : News 24বসুন্ধরা শুভসংঘের উদ্যোগে আরও ১৫ জন দুস্থ নারী পেলেন সেলাই মেশিন
Bashundhara Group Provides Sewing Machines to Underprivileged Women in Moulvibazar
বসুন্ধরা ফাউন্ডেশনের সুদমুক্ত ঋণ পেলেন ৪৩২ সুবিধাবঞ্চিত নারী
432 underprivileged women receive interest-free loans from Bashundhara Foundation
শিক্ষার্থীদের মাঝে বসুন্ধরা গ্রুপের ৬ সহস্রাধিক কোরআন শরিফ বিতরণ
Bashundhara Group Distributes Over 6,000 Copies of the Holy Quran Among Students
খুলনায় বসুন্ধরা শুভসংঘের সেলাই মেশিন পেলেন ৬০ অসচ্ছল নারী
Bashundhara Shuvosangho Distributes Sewing Machines to 60 Underprivileged Women in Khulna
অভয়নগরে বসুন্ধরা শুভসংঘের উদ্যোগে ২০ অসচ্ছল নারীকে সেলাই মেশিন বিতরণ
Bashundhara Shuvosangho Distributes Sewing Machines to 20 Underprivileged Women in Abhaynagar